সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরী খাসিয়াহাওর সীমান্ত এলাকায় গভীর রাতে গুলির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্ত এলাকায় গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নলজুরী এলাকার পাথর ব্যবসায়ী পাগলা মান্নানের ছেলে আহমেদ বাবলা লিটন রয়েছেন। অপর দুই আহত ব্যক্তি হিসেবে নিজাম ও রহমানের নাম জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের কয়েকজন সদস্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিএসএফের গুলির পর ওই চক্রের আরও দুই সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নলজুরী-আলুবাগান সড়ক ব্যবহার করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হচ্ছে, আহত আহমেদ বাবলা লিটন দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পণ্য চোরাচালান ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্র মামলাও ছিল । বর্তমানে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানবপাচারের সময় বিএসএফ গুলি চালানোর পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং পরে বিজিবি সদস্যরা কয়েকজনকে উদ্ধার করেন।
বিএসএফ কেন গুলি চালিয়েছে, সেখানে মানবপাচারের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং আহতদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর সত্যতা—এসব বিষয়ে বিজিবি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।