রাইজিংসিলেট- শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শালিখা উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের ছান্দড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মাগুরায় চোর সন্দেহে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাই প্রধান অভিযুক্ত হাসানকে আটক করেছে শালিখা থানা পুলিশ।
সজীব ছান্দড়া গ্রামের কোহিনুর মোল্লার ছেলে। সে ওই গ্রামের ছান্দড়া প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
সজিবের বাবা কোহিনুর মোল্লা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে সজীব ছান্দড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদে যায়। এসময় এলাকার মুদি দোকানদার হাসান তাকে আটক করে দোকানের মধ্যে নিয়ে চোর সন্দেহে নির্যাতন করে। তারা তাকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পায়ে পেরেক পুতে ও হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন করে। এসময় শালিখা থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত সজীবের চাচা জয়নুল আবেদীন জানান, কয়েকদিন আগে ছান্দাড়া চৌরাস্তার পাশে হাসানের মুদি দোকানে চুরি হয়। এ চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে আমার ভাতিজা সজীবকে তারা আটক করে নির্যাতন চালায়। তার পায়ের একাধিক স্থানে লোহার পেরাগ ঢুকানো হয়। পাশাপাশি হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পাশাপাশি তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে ভিডিও ধারণ করে চোরের স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে।
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ফাহমিদা জামান স্নিগ্ধা জানান, সজিবের অবস্থা গুরুতর, তার পায়ে ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শালিখা থানার অফিসার্স ইন চার্জ (ওসি) মো. বিশারুল ইসলাম জানান, চুরি সন্দেহে সজীব নামের ওই ছেলেটিকে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শালিখা থানা পুলিশ ছেলেটিকে উদ্ধার করে শালিকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স এ ভর্তি করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দোকান মালিক হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।