রাইজিংসিলেট- বাটনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছিল সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায়। কয়েকদিনের ব্যবধানে পরপর দুটি বড় ডাকাতির ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল নগরবাসীর মধ্যে।
নানা তৎপরতা চালিয়েও কোনভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না এই ডাকাত দলকে। ডাকাতির ধরণ দেখে ধারণা করা হচ্ছিল কাজগুলো একই ডাকাতদলের হতে পারে। আরও ধারণা ছিলযে এই ডাকাতদল খুবই সংঘবদ্ধ এবং তাদের খুব চৌকস একজন দলনেতা রয়েছে। পুলিশকে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছিল এই দলটি। তবে পুলিশও ছেড়ে কথা বলেনি।
দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের পাশাপাশি ডাকাতদের খোঁজে রাতদিন নির্ঘুমভাবে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে কাজ করছিল মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা। থানা পুলিশ আর গোয়েন্দা পুলিশ উভয়ের তদন্তে একটি নাম বারবার উঠে আসছিল। দুটো ডাকাতিরই প্রধান আসামী ফজর আলী ওরফে বাটন! এতো স্মার্ট ও ধুরন্ধর এই ডাকাত সর্দার যে ডাকাতির পর কোন ক্লু রেখে যান না তিনি! তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায়ও খুব একটা সুবিধা করা যাচ্ছিল না। কারণ, এই অতি ধুরন্ধর ডাকাত সর্দার এতোই সতর্ক যে তিনি বা তার দলের কেউ কোন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেন না ডাকাতির আগে বা পরে। তাই পুলিশকেও এগুতে হচ্ছিল তদন্তের পুরনো পদ্ধতি অনুসরণ করে।
পরপর দুটি সফল ডাকাতির পর আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে থাকা এই ডাকাতদল আরেকটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে – এমন খবর কোনভাবে পেয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ! পরপর দুটি সফল ডাকাতির পর আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে থাকা এই ডাকাতদল আরেকটি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে – এমন খবর কোনভাবে পেয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ!
নগরীর কাজীরবাজার ব্রিজ দিয়ে পার হবে তারা এমন খবর ছিল। ব্রিজের আশেপাশে তাই ওঁত পেতে ছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ তার দল।
সকাল থেকে তার অপেক্ষা করতে করতে আশার আলো সব ফুরিয়ে আসছিল। সবাই যখন আশা ছেড়ে দিচ্ছিল তখন হুট করেই ডাকাত সর্দার বাটনের দেখা পেয়ে পান গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা!
অতিদ্রুতই ধুরন্ধর বাটন ঘটনা টের পেয়ে যান! তার সহযোগী পালাতে শুরু করলে তাকে জাপটে ধরেন এক পুলিশসদস্য। সাথে সাথেই আশেপাশে ওঁত পেতে থাকা বাকি সদস্যরা তাকে ধরে ফেলে।
কিন্তু হার মানতে যেন নারাজ অতিপরাক্রমশালী ডাকাতসর্দার! আট সদস্যের সাথে ধস্তাধস্তি করে তাদেরসহ নদীতে ঝাঁপ দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।
অনেক চেষ্টার পর অবশেষে রণে ক্ষান্ত দেন! তার সহযোগীকে আশেপাশে থাকা লোকজন ধরে ফেলে। অনেক চেষ্টার পর এই দলের আরেক সহযোগীকে ধরতে সক্ষম হয় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
ফজর আলী ওরফে বাটন ও তার সহযোগীদের ধরা পড়ায় গত কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে থাকা সিলেট নগরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।