মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেটে মানবাধিকার সংগঠন সেইভ দ্যা হিউম্যান আয়োজিত মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হোটেল ক্রাউন পার্ক, কুমারপাড়া, সিলেটে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব, তরুণদের বিপথগামিতা প্রতিরোধ এবং পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সেইভ দ্যা হিউম্যান-এর পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান।
আউলিয়া ফেডারেশন বাংলাদেশ এবং সেইভ দ্যা হিউম্যান-এর সদস্য মোঃ ছামির আলীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
সেইভ দ্যা হিউম্যান-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক ও আউলিয়া ফেডারেশন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা খাজা মঈনউদ্দীন আহমদ জালালাবাদী।
প্রধান আলোচক ছিলেন মোহাম্মদ রফিকুল হক, পরিচালক ও অধ্যক্ষ, আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বাগবাড়ি, সিলেট।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট; মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন, পরিচালক, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং হাকিম মোঃ আব্দুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা, সেইভ দ্যা হিউম্যান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফারুক আহমেদ শিমুল, নির্বাহী পরিচালক, সেইভ দ্যা হিউম্যান।
সেমিনারটি পরিচালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আল আমিন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ও আজীবন সদস্য, সেইভ দ্যা হিউম্যান।
বক্তারা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি তরুণদের জন্য শিক্ষা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।