সিলেটের সীমান্তবর্তী হরিপুর এলাকা দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের কার্যক্রম থামছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও পণ্য জব্দের ঘটনা ঘটলেও রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমান্ত থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন পণ্য সিলেট নগরী হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হচ্ছে, ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।
আরও পড়ুন—অপরাধ রাজ্যের স ম্রা ট কে এই ইন্তাজ আলী? খুঁটির জোর কোথায়?
সূত্র জানায়, ভারতীয় জিরা, বাসমতি চাল, প্রসাধনী, চকলেট, মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য হরিপুর সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে গভীর রাতে ছোট যানবাহন, মিনি ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহনের মাধ্যমে তামাবিল-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। একই রুট ব্যবহার করে মাদকও পাচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হরিপুর সীমান্তকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সীমান্ত থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক এবং শেরপুর টোল প্লাজা পর্যন্ত তাদের নিজস্ব লাইনম্যান রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও দাবি করেছেন একাধিক স্থানীয় সূত্র।
আরও পড়ুন—-শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর রক্তসম্পর্কীয় বংশধরের প্রামাণ্য দলিল নেই: ইতিহাসবিদদের দাবি
অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত থেকে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অতীতে তারা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্তমানে বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় দুই নেতার সহায়তায় চোরাচালান পরিচালনা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতি গাড়ি চোরাচালানি পণ্য পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। বিনিময়ে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের মাধ্যমে বহরের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হয়। প্রতিদিন এভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, চোরাচালান থেকে আদায় হওয়া অর্থের একটি অংশ প্রভাবশালী মহল এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন—গোয়াইনঘাটে বালু উত্তোলনের আড়ালে কোটি টাকার সিন্ডিকেট? ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর অ ভি যো গ
টিলাগড় বাজারের এক নৈশপ্রহরী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে দ্রুতগতিতে ছোট-বড় বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন শহরের দিকে যেতে দেখা যায়। এসব গাড়ির সামনে ও পেছনে মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেটকার চলতে দেখা যায়। তবে কী ধরনের পণ্য বহন করা হয়, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধু পরিবহনকারীকে গ্রেপ্তার করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না; বরং অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক এবং মূল হোতাদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বেশিরভাগই সাড়া দেননি। পরে একজন যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মজরুল আলম বলেন, “চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।