রাইজিংসিলেট- আফ্রিকার পাহাড়ি ঝোপ থেকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘রুইবোস’ চা। দক্ষিণ আফ্রিকার সিডারবার্গ পর্বতমালার নির্দিষ্ট অঞ্চলে জন্মানো রুইবোস উদ্ভিদ একসময় শুধুই স্থানীয় সান ও খোই আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পানীয় ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যাফেইনমুক্ত চা বিশ্ববাজারে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে রুইবোস চায়ের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। এতে ক্যাফেইন না থাকায় এটি কফি ও প্রচলিত কালো চায়ের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় হৃদ্স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণেও এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পানীয়ের পাশাপাশি প্রসাধনী শিল্পেও রুইবোসের ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জ্ঞান থেকে উৎপত্তি হলেও বহু বছর ধরে এর বাণিজ্যিক সুবিধা মূলত অন্যদের হাতেই ছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করা হয়, যাতে রুইবোসভিত্তিক ব্যবসা থেকে আয়ের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট আদিবাসী সম্প্রদায়ের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
রুইবোস আন্তর্জাতিকভাবেও বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক উৎসের পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা এর উৎপত্তিস্থল ও ঐতিহ্যকে সুরক্ষা দেয়।
সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১১৩ জন, শনাক্ত আরও ২০
তবে শিল্পটি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরার প্রভাব উৎপাদনে পড়ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও রপ্তানি বাজারকে প্রভাবিত করছে। তবুও সংরক্ষণের পর দীর্ঘ সময় গুণগত মান বজায় রাখার সক্ষমতার কারণে রুইবোস আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।