ঢাকাSunday , 11 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাহাড়জুড়ে জুমের ফসল ঘরে তোলার ধুম, ভালো ফলনে হাসি চাষিদের মুখে

rising sylhet
rising sylhet
October 11, 2026 2:16 pm
Link Copied!

ads

রাইজিংসিলেট- রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদে শুরু হয়েছে জুমের পাকা ফসল ঘরে তোলার মৌসুম। সবুজ পাহাড়ের ঢালে ঢালে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ধানের পাশাপাশি মরিচ, হলুদ, আদা, বেগুন, কুমড়া ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জুমচাষিরা। এ বছর ভালো ফলনের প্রত্যাশায় পাহাড়ের কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহ।

ফসল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কাজের ফাঁকে ঐতিহ্যবাহী গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মেতে উঠছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যায় মাচাংঘরে বসছে গানের আসর। জুমের ফসল তোলা তাঁদের কাছে শুধু কৃষিকাজ নয়, বরং দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জুমচাষি অমিয় কান্তি চাকমা জানান, পাহাড়ে পাকা ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ধানের পাশাপাশি জুমের জমিতে উৎপাদিত মরিচ, হলুদ, আদা, মারফা, বেগুন, ধানিমরিচ, ঢেঁড়শ, কাঁকরোল ও কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা।

আরেক জুমচাষি অজয় চাকমা বলেন, বীজ বপনের পর ফসল উৎপাদনের জন্য প্রায় পাঁচ মাস ধরে জমির পরিচর্যা করতে হয়। জুমে ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, তুলা, তিল, আদা, হলুদ, মরিচ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়শ, কলা, পেঁপে ও যবসহ প্রায় ৩৩ ধরনের ফসল চাষ করা হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালের গাছপালা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে আগুনের মাধ্যমে জমি প্রস্তুত করা হয়। পরে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সেখানে বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করেন চাষিরা। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ধান পাকার পর শুরু হয় ফসল সংগ্রহ। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে সাধারণত তুলা, তিল ও যব ঘরে তোলা হয়।

সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

প্রচলিত জুমচাষ পদ্ধতিতে একটি পাহাড়ে চাষের পর পরবর্তী মৌসুমে অন্য পাহাড়ে জমি নির্বাচন করা হয়। এতে আগের জমি পুনরায় চাষের উপযোগী হওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় পাওয়ার কথা।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, চলতি বছর জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে জুম চাষ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে ১১ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং অন্যান্য ফসল ২০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় প্রায় ১৮টি জাতের জুমের ধান চাষ হয়।

ads

সিলেটে শুরু হয়েছে পাঁচদিনব্যাপী ‘৫০তম জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ

তিনি বলেন, একই পাহাড়ে পুনরায় জুম চাষের আগে অন্তত ১৫ বছর অপেক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে আসায় অনেক ক্ষেত্রে একই পাহাড়ে বারবার চাষ করতে হচ্ছে। ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া জুমের জমি প্রস্তুত করতে বনজঙ্গলে আগুন দেওয়ার কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারে। এতে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তাদের খাদ্যসংকটও দেখা দিতে পারে।

সিলেটে মোটরসাইকেল দু র্ঘ ট না য় শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু

এই পরিস্থিতিতে জুমচাষের বিকল্প হিসেবে কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি ফলের বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের সমন্বয়ে মিশ্র বাগান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এমন বাগান গড়ে তুলতে পারলে কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবছর মোট কত হেক্টর জমিতে জুম চাষ করা হয়, তার নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো কৃষি বিভাগের কাছে নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।