গুরুদাসপুরে প্রেমিকার পরিবার থেকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে বিষপান করেছে। এতে প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছে এবং প্রেমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই প্রেমিকা।
নিহত রূপা খাতুন (১৬) উপজেলার খুবজীপুর ইউপির উত্তরপাড়া এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে খুবজীপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার শামিমা আফরোজ বলেন, ‘বিষপানের পর দুপুর আড়াইটার দিকে ওই প্রেমিক-প্রেমিকা হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে মেয়েটি পয়জন ওয়াস করতে দিচ্ছিল না। পরিবারও সহযোগিতামূলক আচরণ করেনি। পরে সবাই বোঝানোর পর পয়জন ওয়াস করতে দেয় কিন্তু এতে দেরি হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মেয়েটা মারা যায়। ছেলাটাও অস্থির ছিল। অবস্থা একটু খারাপ হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মেয়েটির পরিবার বলেছে, কাঁকড়া মারা বিষ খেয়েছে যেটিকে ওপিসি (অরগানো ফসফরাস কমপাউন্ড) পয়জন বলা হয়। এই বিষ খুবই শক্তিশালী। ২০-২৫ দিন পরেও এ ধরণের বিষে রিঅ্যাকশান হয় বলে জানান ওই মেডিকেল কর্মকর্তা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লার ছেলে ইমন সঙ্গে ছয় মাস ধরে প্রেম রূপার। গতকাল রোববার কুমিল্লা থেকে প্রেমিকার বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়ের পরিবার ছেলের পরিবার ছাড়া বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। পরে ইমন তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। দুপুরের দিকে রূপার পরিবারের লোকজন মাঠে কাজে গেলে বাড়ির পাশের নদীর ধারে বাড়িতে রাখা বিষ প্রথমে রূপা ও পরে ইমন পান করে। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মশিউর রহমান, বিষপানে অসুস্থ ইমন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠোনো হয়েছে। ইমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।