রাইজিংসিলেট- ৭ বছর পর জানা গেল নিজ মেয়েকে হত্যা করেছে বাবা,সংসার জীবন ভালোই চলছিলো, নিজ পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীর পারুল আক্তার। এরপর ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতে থাকেন পারুল ও তার স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। কিন্তু তাদের সেই বিয়ে মেনে নিয়েছিলেন না পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস।
এদিকে মাস শেষে দু’জনে যে বেতন পেতেন তাতে খুব ভালোভাবে সংসার চলতো না তাদের। এ কারণে মাঝে মাঝে ঝগড়া হতো পারুল ও নাছিরের। বিয়ের তিন বছর পর একদিন ঝগড়া করে স্ত্রী পারুলকে বাসায় রেখে বাইরে যান নাছির। এরপর বাবাকে ফোন করে সাংসারিক সমস্যার কথা জানান পারুল।
পারুলের বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। মেয়েও বাবার কথা অনুযায়ী স্বামীর সংসার রেখে চলে যান গ্রামে। এরপর ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান হওয়ায় মেয়েকে মেরে ফেলর পরিকল্পনা করেন। বাবা কুদ্দুস মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে নিয়ে যান জয়পুরহাটে। কুদ্দুসের সঙ্গে তার বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান সেখানে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় যাওয়ার পর একটি নদীর পাশে রাতের অন্ধকারে বন্ধু মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় মেয়ের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফলে দেন।
গত ২০ জানুয়ারি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মেয়ে পারুলকে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ এভাবেই জানান বাবা কুদ্দুস। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি। রোববার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কুদ্দুছের সেই জবানবন্দি তুলে ধরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বনজ মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মেয়ে পারুল নিজ পছন্দের ছেলেকে বিয়ের পর থেকে কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল যে, মেয়ে তাকে যে অসম্মান করেছে তাতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই তার। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সুযোগ পাওয়ায় বন্ধুর সহযোগিতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়েকে হত্যা করেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মেয়েকে হত্যার পর বাবা কুদ্দুসের ভাবনা, তার মেয়ের এই পরিণতির জন্য জামাই নাছিরও দায়ী। এ জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসানোর জন্য একের পর এক মামলা করতে থাকেন। রহস্য বের করতে না পেরে থানা-পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। আর কুদ্দুসও বারবার নারাজি দেন।
পিবিআই আরও জানায়, এ ঘটনায় পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করেন। সবশেষ আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত দেয়া হয় পিবিআইকে। এরপর তদন্তে নেমে মেয়ের বাবার করা ২০১২ সালের একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) দেয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়। কুদ্দুস নিজ মেয়েকে হত্যার পর মেয়ের জামাইকে শাস্তি দেয়ার জন্য সাত বছর ধরে মামলা চালিয়েছেন।