সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ নম্বর বিছনাকান্দি ইউনিয়নের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিতে অবৈধভাবে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বালু মহালের ইজারার আড়ালে প্রতিদিন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পাথর উত্তোলন করায় পরিবেশ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং পর্যটন কেন্দ্র মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত জয়নাল, আবজল, মাসুম, সুলতান ও বুরহানের নেতৃত্বে একটি চক্র দানবাকৃতির বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সৃষ্ট তীব্র শব্দ ও কম্পনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স মান্নান ট্রেডার্স হাদারপাড় বালু মহালের ইজারাদার হলেও ইজারার নির্ধারিত সীমার বাইরে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পটসংলগ্ন এলাকায় বালুর পরিবর্তে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় বালুর সঙ্গে কিছু পাথর মিশ্রিত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেগুলোই উত্তোলন করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি কেবল বালুর সঙ্গে থাকা পাথর উত্তোলনের বিষয় নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং এ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইজারাদারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই পাথর উত্তোলন করা যাবে না। যদি পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিকে রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর অভিযান পরিচালনা, অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভিডিও লিংক—বিছনাকান্দিতে বোমা মেশিনে অবৈধ পাথর উত্তোলনের অ ভি যো গ, হু ম কিতে পর্যটন কেন্দ্র ও পরিবেশ