ডেবিল কামরুল এখন খোলস বদলিয়ে মন্ত্রী আরিফুল চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। হাজীপুর, আহারকান্দি, প্রতাপপুর, লোনি কইনা জঙ্গল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও চা-বাগানের জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
চা-বাগানের শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ইমান হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি ও অসহায় করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোয়াইনঘাটে রাজত্ব কায়েম করতেন জামাই সুমন, আলীম উদ্দিন, সুবাস, মুজিব, রাসেল, সারোয়ারসহ আরও অনেকে। তাদের লাঠি হিসেবে কাজ করতেন খয়রুল-কামরুলরা। তাদের দিয়ে মারামারি, ভয় দেখানো, ভূমি দখল, চা-বাগানের জায়গা আত্মসাৎ করে বালু-পাথর উত্তোলন এবং চাঁদা আদায় করানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মাদক, অস্ত্র, গরু ও কসমেটিকস চোরাচালান চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর তারা বিএনপির এক বড় নেতার ছায়াতলে চলে যান। সেখানে গিয়ে আবারও রাজত্ব কায়েম করা শুরু করেন। পাঁচ তারিখের পর গোয়াইনঘাটের বালুমহাল ইজারা নেন মেসার্স কামরুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজ। সেখানে তাদেরকে লাঠি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং বাংলাবাজারের রিয়াজ মেম্বার ও তার লোকজনের ওপর হামলা করেন তারা বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই বালুমহাল থেকেও প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও এক নেতার কারণে ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নেতা তাদেরকে বাঁচিয়ে দেন বলেও জানা যায়। এরপর একের পর এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা।
এখনও গোয়াইনঘাটে ‘বুঙা সিন্ডিকেট’ তাদের ইশারায় চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে হাজীপুর-আহারকান্দি বালুমহালও তাদের ইশারায় চলছে বলে অভিযোগ। সেখানে ইজারার বাইরে উত্তর প্রতাপপুর, লোনি কইনা জঙ্গল এলাকায় রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এই লুটপাট চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের ৪ লাখ টাকা এবং প্রশাসনকে ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। গোয়াইনঘাট যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিককে প্রশাসনিক লাইন বাবদ প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আবার কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমেদ চাঁদা না দেওয়ায় তার বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৩ জন আহত হন এবং দুজনের আঙুল কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।
তোফায়েল বলেন, তাদেরকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে কামরুল ইসলাম, খায়রুল ও জুবায়ের সিন্ডিকেট তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তারা তার আত্মীয়স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা করে এবং দুজনের আঙুল কেটে ফেলে।ফায়েল গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করলে তখনকার ওসি মনিরুজ্জামান বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনেক সময় পর ওসি কৌশলে দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তারা প্রশাসনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং আরিফুল হক চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে ম্যানেজ করে রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাজীপুর বালুমহালের ইজারাদার ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে বিনা টাকায় অংশীদার নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
হাজীপুর সিরিঘাটের নিচে সিলেটের লন্ডনী কামালের প্রায় ৭ একর জায়গা ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই জায়গা থেকে ১ কোটি টাকা ড্রেজার নৌকার কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়েছে বলেও জানা যায়।
ভুক্তভোগী লন্ডনী কামাল তার কাগজপত্র নিয়ে সিলেট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং তিনি রায় পান।
পরের পর্ব আসছে।