কামাল হোসেন মিঠু :: শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে সরকারি এ সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে একটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিতদের মধ্যে দেখা যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীমান্ত এলাকার আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বারকে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, অতীতে মান্নান মেম্বারের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ নিয়েও তাঁর নাম আলোচনায় আসে।
এছাড়াও, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের নির্বাচনী কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়েও স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল বলে দাবি করেন অনেকে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে অতীতেও এলাকায় নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি। এমন অভিযোগ ও বিতর্কের সঙ্গে নাম জড়ানো একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচিতে তাঁর নিকট উপস্থিত থাকার সুযোগ পেলেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, সরকারি সফরে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পরিচয়, ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন কি না। সরকারি সফরের নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বিষয়টিও এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন মন্নান মেম্বার।
একজন মন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচিতে কারা উপস্থিত থাকবেন, সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রতীক। ফলে বিতর্কিত বা অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারি কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে ।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা জনস্বার্থে প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে, সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি জানান, নতুন মূল্যায়ন কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এভাবে সরকারি শিক্ষা সফরের পাশাপাশি সফরসঙ্গীদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়েও জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।