সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে ঘিরে ইয়াবা ও গাজা সেবনের ভাইরাল ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ এবং প্রশাসনিক তদন্ত নিয়ে নতুন করে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করলেও এখন স্থানীয়দের মুখে একটাই প্রশ্ন—এই তদন্ত প্রতিবেদন কি সত্যিই প্রকাশ করা হবে, নাকি প্রভাবশালীদের চাপে তা আর আলোর মুখ দেখবে না?কয়েকদিন আগে চেয়ারম্যানকে ঘিরে ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। পরে আরও একটি গাঁজা সেবনের দাবিকৃত ভিডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। চেয়ারম্যান ইয়াবা-সংক্রান্ত ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করলেও অন্য ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেননি।
আরও পড়ুন–অপরাধ রাজ্যের স ম্রা ট কে এই ইন্তাজ আলী? খুঁটির জোর কোথায়?
ঘটনার পর জনমনে সৃষ্টি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষ আশাবাদী হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তদন্তের অগ্রগতি কোথায়? কবে প্রকাশ হবে প্রতিবেদন? আদৌ কি সেই প্রতিবেদন জনগণের সামনে আনা হবে?স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব কিংবা গোপন রাখার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও চেয়ারম্যানকে ঘিরে নানা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও মতামত প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। কেউ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ ভাইরাল ভিডিওগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।,স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে নয়; এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের আস্থার সঙ্গেও জড়িত। তাদের ভাষ্য, তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে প্রকৃত জবাবদিহির পরিচয়।
এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন যদি দীর্ঘদিন প্রকাশ না করা হয়, তাহলে জনমনে আরও সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তাই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তদন্ত শেষ হয়েছে কি না এবং কবে প্রতিবেদন দাখিল বা প্রকাশ করা হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।