ঢাকাTuesday , 23 June 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বালু লুটে বিপন্ন হচ্ছে সিলেটের গোয়াইনঘাট সাধারণ মানুষের মানববন্ধন, থানার ওসি বদলি

rising sylhet
rising sylhet
June 23, 2026 9:30 pm
Link Copied!

ads

কামাল হোসেন মিঠু ::  নিষিদ্ধ বোমা মেশিন, দানবীয় এক্সেভেটর এবং ফেলুডার দিয়ে দিন-রাত নদী ও ফসলি জমি খুঁড়ে বালু তোলার কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর, হাজিপুর, লুনি ও কন্যা জঙ্গল, পিয়াইন নদী, গোয়াইন নদী, ডাউকি অববাহিকাসহ হাজিপুর, আহারকান্দি, উত্তর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর, পাঁচহাতি খেল, আমবাড়ি, রাতারগুল এবং জাফলং সেতুর নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর বুক ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় ঘরবাড়ি, স্কুল,মসজিদ, কবরস্থান ও সরকারি রাস্তাঘাট এখন নদীগর্ভে বিলীনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। লাটিয়াল বাহি-নীর ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

 

 

প্রশাসন-সাংবাদিক-নেতাগণ টাকার ব্যাগে বন্দি, কত টাকায় বিক্রি হলো গোয়াইনঘাটের সকল বালুমহাল?” এটি কোনো সাধারণ প্রশ্ন নয়, বরং সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষের বিবেক ও অস্তিত্বের আর্তনাদ। পরিবেশ আইন ও ইজারার শর্তের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলার নদী ও ফসলি জমি খুবলে খাচ্ছে এক সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী চক্র। আর এই লুটপাটের মহোৎসবে ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন, কতিপয় সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে এই ভয়াবহ অনিয়মের খবর ছড়ানোর পর নড়েচড়ে বসেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। মাঠে নামে দৈনিক পর্যবেক্ষণ এর অনুসন্ধানী টিম।

 

আরও পড়ুন — গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: দায় কি শুধু পুলিশের,নাকি উপজেলা প্রশাসনেরও?

 

 

 

লাগাতার বিরামহীন কাজ করে সরেজমিনে। একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে লুটপাটের সকল তথ্য উপাত্ত। সেই সংবাদের জেরে গত ১৮ জুন (২০২৬) গোয়াইনঘাট থানার বহুল বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে অবশেষে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে। এই বদলিকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের মূল প্রশ্ন ক্ষমতার অপব্যবহার ও উদাসীনতার যে রাজত্ব এখানে কায়েম হয়েছে, তার শেষ কোথায়?

 

 

১১০ কিলোমিটার জুড়ে লুটের সাম্রাজ্য। একটি নিজের আড়ালে পুরো উপজেলা চলতি বছর সিলেট জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় মাত্র একটি বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়। ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্ণধার আবদুল্লাহ আল মামুনের নামে হাজিপুর-আহারকান্দি বালুমহালের মাত্র ৮৪.৫৭ একর জমি লিজ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী ইজারাদারকে সীমানা নির্ধারণ না করেই জমি সমঝিয়ে দেন। আর এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে ঢাল বানিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ অন্তত ৪০ জন বিএনপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও যুবদল নেতাকে টাকার বিনিময়ে অংশীদার করেন। তৈরি হয় এক ‘সর্বদলীয় বালু সিভিকেট’। নির্দিষ্ট নাগের বাইরে গিয়ে পিয়াইন নদী, গোয়াইন নদী, ডাউকি অববাহিকাসহ হাজিপুর, আহারকান্দি, উত্তর ও দক্ষিণ প্রতাপপুর, পাঁচহাতি খেল, আমবাড়ি, রাতারগুল এবং জাফলং সেতু এলাকাসহ প্রায় ১১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন ও জোরপূর্বক চাঁদাবাজি।

 

 

এই অনুসন্ধানে স্থানীয় ভূমি প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও রহস্যজনক নীরবতার চিত্র উঠে এসেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী, নিজের চাবিকাঠি ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি ইজারার নামে পুরো উপজেলা লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার মূল অভিযোগ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। মাত্র ৮৪.৫৭ একরের লিজ নিয়ে পুরো উপজেলার ১১০ কিলোমিটার এলাকা উন্মুক্ত করে দেওয়ার পেছনে তার সীমানা নির্ধারণ না করার ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এদিকে ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বালুমহালের উন্নয়ন ট্যাক্স আদায়ের টেন্ডারে ৬১ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে, গত ১৪ মে গোপনে কম দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হাইকোর্টের রুল ও নির্দেশনা থাকলেও তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। হাজীপুরে অতিরিক্ত রয়্যালটি ও চাঁদাবাজি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর তিনি ‘লিখিত আদেশের’ অজুহাত দেখিয়ে দায় চাপাচ্ছেন এডিসি রেভিনিউ ও ডিসি অফিসের ওপর।

ads

 

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্বে থাকা সদ্য বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নামের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ছিল সিন্ডিকেটকে পাহারা দেওয়ার অভিযোগ মানববন্ধনে থাকা স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি নিজে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের স্থানগুলো ঘুরে দেখতেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিতেন না। বিকাল হলে লাইনম্যান টাকা নিয়ে খানায় হাজির হতো। ফুটপ্রতি অতিরিক্ত রয়্যালটি ও নৌকা থেকে চাঁদাবাজির কারণে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার হাজীপুরে গ্রামবাসী ও সিন্ডিকেটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হলেও খানা পুলিশ কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া গতকাল ২০ জুন একই ভাবে হাজিপুর চাবাগান এলাকার লোকজন মানববন্ধন করে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে। তাদের আহাজারির কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। কারা কারা বালু লুটে জড়িত তাদের নাম পরিচয় সাংবাদিকদের কাছে বলেন।

 

 

রাতভর চলে ওসির বদলির আদেশ ঠেকানোর তদবির, এর আগেও তার বিরুদ্ধে চোরাচালানে সহযোগিতা (যার কারণে পাড়ির ধাক্কায় শিক্ষক ও পথচারী নিহত হন) ও নানাবিধ অভিযোগ উঠলে বদলির গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু অবৈধ অর্থের জোরে তিনি তা ঠেকিয়ে রাখতেন বলে জানা যায়। অবশেষে ১৮ জুন তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।

 

 

স্থানীয় ভূমি প্রশাসন (এসিল্যান্ড)। খাস জমি রক্ষা ও সীমানা চিহ্নিত করণে চরম ব্যর্থতা বালুমহালের নির্দিষ্ট দাগ, খতিয়ান এবং মৌজা রক্ষা করার আইনি দায়িত্ব সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের। ইজারার তফসিলভুক্ত জমির বাইরেও বিপুল পরিমাণ সরকারি খাস জমি ইজারাদারের দখলে চলে গেলেও ভূমি অফিস ছিল অন্ধ। গোয়াইনঘাট থানা দেবার ফেডারেশনের দাবি সত্ত্বেও অবৈধ বালু মহালের সীমানায় লাল পতাকা টাঙিয়ে নির্দিষ্ট দাগ-খতিয়ান স্পষ্ট করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় ভূমি প্রশাসন। ফলে ইজারাবহির্ভূত ‘উত্তর প্রতাপপুর্ব’ মৌজা থেকেও দেদারসে বালু ও পাখর লুট হয়েছে।

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা এডিসি রেভিনিউ। রাজস্ব চুরির ভাগাড় জেলার রাজস্ব খাতের প্রধান তদারককারী হিসেবে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি রোধে তার কোনো মাঠপর্যায়ের তদারকি লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারি কাগজে ফুটপ্রতি বালুর নির্ধারিত কোন রয়্যালটির রেইট নির্ধারিত নেই। তবে লোক মুখেগুঞ্জন রয়েছে, ১ টাকা ৭৫ পয়সা। অথচ সিন্ডিকেট জোরপূর্বক আদায় করছে ৮ থেকে ১০ টাকা। সাধারণ ২০০ ফুটের ট্রাক ও নৌকা থেকে ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কোষাগারে টাকা না গিয়ে এই কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে, যার জবাবদিহিতা এডিসি (রাজস্ব) দপ্তর নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

 

জেলা প্রশাসক জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জেলার আইনি ও পরিবেশগত স্থিতিশীদতা বজায় রাখার চূড়ান্ত দায়িত্ব তার। স্থানীয়দের প্রশ্ন জেলা প্রশাসক গভীর রাত পর্যন্ত স্টাফ নিয়ে অফিস করলেও তার নাকের ডগায় গোয়াইনঘাটে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুট হওয়ার খবর কি তিনি রাখছেন না? যদি গতকাল এক আদেশে তাকে সিলেট থেকে বদলী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে যুক্ত করা হয়েছে।

 

 

হাইকোর্টে রিট: গত ০৯ জুন ২০২৬ তারিখে উত্তর প্রতাপপুর মৌজায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠানো হলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো শক্ত নিষেধাজ্ঞা বা টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরো উপজেলার বালু লুট ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্যকে মূলত তিনটি রুটে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রুট-১ (পরগনা বাজার নদী এলাকা)। নেতৃত্বে রয়েছে লোমান, হুনা মিয়া মেম্বার, জুনাব আলী ও আতিক ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।