রাইজিংসিলেট- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পুষ্টির চাহিদা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। ষাট বছর পার করার পর সুস্থ থাকতে সঠিক খাবার নির্বাচন করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ বয়সে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা বা পরিমাণ কমিয়ে আনার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। রাইজিং সিলেট-এর প্রকাশক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামাল হোসেন মিঠু বাইক দুর্ঘটনায় আহত
১. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, সালামি ও বেকনের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে লবণ এবং সংরক্ষণকারী উপাদান বেশি থাকতে পারে। এগুলো ঘন ঘন খাওয়ার পরিবর্তে তাজা মাছ, মুরগির মাংস, ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া ভালো। রান্নায় অতিরিক্ত লবণ না দিয়ে প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়
কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত মিষ্টি জুস ও চিনি মেশানো অন্যান্য পানীয় শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর পরিবর্তে বিশুদ্ধ পানি পান করা সবচেয়ে ভালো। স্বাদ বাড়াতে পানিতে লেবু বা ফলের টুকরা মেশানো যেতে পারে।
৩. পরিশোধিত ময়দার খাবার
সাদা পাউরুটির মতো পরিশোধিত শস্যের খাবারে পূর্ণ শস্যের তুলনায় খাদ্যআঁশ কম থাকে। এগুলো দ্রুত হজম হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিকল্প হিসেবে লাল আটার রুটি, পূর্ণ শস্যের পাউরুটি ও ওটস খাওয়া যেতে পারে। আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে।
৪. অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার
পুরি, সিঙাড়া ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো খাবারে তেল ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই খাবার সেদ্ধ, গ্রিল বা বেক করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। রান্নায় প্রয়োজনমতো অল্প তেল ব্যবহার করাও উপকারী।
৫. বেশি চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার
মাখন, ক্রিম ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত কিছু দুগ্ধজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ব্যক্তিগত পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দই বেছে নেওয়া যেতে পারে। উদ্ভিজ্জ দুধ পান করলে তাতে যোগ করা চিনি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ যাচাই করা উচিত।
৬. লবণ ও সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার
আচার, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্যাকেটজাত নাশতায় সোডিয়াম বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরবর্তী সময়ে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এ জন্য খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত করা এবং প্যাকেটজাত পণ্যের পুষ্টিতথ্য পড়ে কেনার অভ্যাস করা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, সবজি ও ঘরে তৈরি খাবার বেশি রাখা ভালো।
৭. কেক, পেস্ট্রি ও মিষ্টিজাত বেকারি পণ্য
কেক, ডোনাট ও পেস্ট্রিতে চিনি এবং চর্বি বেশি থাকতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে এসব খাবার খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের কারণে ওজন বাড়তে পারে। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে তাজা ফল বা চিনি ছাড়া দই বেছে নেওয়া যায়। বাড়িতে মিষ্টিজাত খাবার তৈরি করলে চিনির পরিমাণ কম রাখার সুযোগ থাকে।
সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস
ষাট বছর বয়সের পর সুস্থ থাকার জন্য শুধু কিছু খাবার বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটে শিক্ষার্থীকে ধ র্ষ ণে র অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
তবে সবার পুষ্টির চাহিদা এক নয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক খাবার নির্বাচন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বয়স বাড়ার পরও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সহজ হতে পারে।