সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও নির্ধারিত সীমানার বাইরে পিয়াইন নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২ নম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পান্তুমাই থেকে মনরতল বাজার পর্যন্ত পিয়াইন নদীর তীরবর্তী এলাকা জনবহুল ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল। এ অংশকে বালুমহালের অন্তর্ভুক্ত না রাখার জন্য বুগইলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই অংশ বালুমহালের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন–সেলিনা মোমেনের লাগামহীন দুর্নীতি ও অর্থলোভের কারণে ঢাকা-সিলেট ৬-লেন মহাসড়ক পিছিয়ে পড়ে
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পিয়াইন নদীর বিভিন্ন অংশে বালু ও পাথর উত্তোলন চলছে। বিশেষ করে বুগইলকান্দি, মনাইকান্দি, মনরতল, লংলাখাল, মুরামুরিখাল ও খুরি মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাদারপার বালুমহাল ইজারার আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা ও মনরতল বাজারসংলগ্ন সংরক্ষিত স্থান থেকেও ড্রেজার দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ ও তীরের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তনের পাশাপাশি নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন—-ইন্তাজ আলীকে ঘিরে তদন্ত: প্রতিবেদন জমা,প্রকাশের অপেক্ষায় জনতা
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অনেক বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ভবিষ্যতে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন চালানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।অন্যদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা তাঁতিদলের নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বালুমহালের বাইরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করা হলেও তিনি ইজারাকৃত সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা পিয়াইন নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, ইজারার সীমানা নির্ধারণ ও তা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং নদীতীরবর্তী জনবসতি ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
চলবে,,,