ঢাকাTuesday , 1 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আরো
  5. খেলার খবর
  6. গণমাধ্যম
  7. চাকরির খবর
  8. জাতীয়
  9. দেশের খবর
  10. ধর্ম পাতা
  11. পরিবেশ
  12. প্রবাস
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাওরাঞ্চলের সুনামগঞ্জ জেলায় বিল ও নদী খননে সরকারের সু-দৃষ্টি চাই -পিযুষ চক্রবর্তী

rising sylhet
rising sylhet
September 1, 2026 6:05 pm
Link Copied!

ads

ধান ও মাছের হাওর-বাওর, বিল-ঝিলসহ অসংখ্য নদীনালার দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। কৃষি এদেশের মানুষের প্রধান পেশা এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ভৌগোলিক কারণে এদেশ নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান সুশোভিত অঞ্চল। কথায় আছে, মাছে-ভাতে বাঙালি। মাছ ও ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। জলজ মাছ ও ফসলের ধান বাঁচায় বাংলাদেশীর প্রাণ।

 

 

 

 

হাওর, নদী ও ফসলকে রক্ষা করতে জনতা ও সরকারকে সচেতন ভাবনা ভাবতে হবে অচিরেই। দেশের খাদ্য উৎপাদনে পাহাড়ি অঞ্চলে জুম চাষ করা হয় এবং হাওরাঞ্চলে বেশি পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়, যা দ্বারা দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলায় হাওরবেষ্টিত জনপদ রয়েছে। বিস্তৃত হাওর অঞ্চলের একটি বড় অংশ সিলেট বিভাগের ভাটি অঞ্চলখ্যাত সুনামগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় ছোট-বড় মিলে ১৫৪টি হাওর রয়েছে।

 

 

 

 

 

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও সর্বাধিক পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওর, দেখার হাওর, মাটিয়ান হাওর, পাকনার হাওর, শনির হাওর, চেপ্টির হাওর, ধারাম হাওর, ধানকুনিয়ার হাওর, ডিঙ্গাপুঁতার হাওর এবং আমার জন্মস্থান পুরন্দরপুর কালিয়াগুটা হাওর তীরে অবস্থিত। উজানের পাহাড়ি ঢলে বর্ষা মৌসুমে পলি এসে হাওর, বিল, সুরমার শাখা পিয়াইন নদী কিছু কিছু জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। কৃষিতে পানিসেচ, নৌ-যোগাযোগ, মৎস্য আহরণসহ নানা ক্ষেত্রে স্থানীয় হাওরবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত। হাওরের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ ব্যবস্থা থাকলেও পানিধারণ করার কথা ও বিলের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিল ও নদী বিভিন্ন জায়গায় নাব্যতা হারিয়ে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পানিধারণ করছে হাওরের সোনালী ফসলের জমি। অসময়ে কৃষকের সারা বছরের খাদ্যপ্রাণ ‘ধান’ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু কৃষকই স্থানীয়ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয় না; জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতির শিকার হয়।

 

 

 

 

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের গণেশ সরকার গঙ্গেশ বলেন, ‘প্রজন্ম পরম্পরায় আমরা কৃষক। কৃষির উপর নির্ভর করে আমাদের জীবন-জীবিকা চলে। কৃষিপ্রধান দেশ অথচ কৃষকদের দুর্দশার দিক নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তথা সরকারের। আমাদের ট্যাক্সে দেশ ও সরকার চলে। আমাদের ভোটে এমপি-মন্ত্রী হয়; আমরা জনগণ বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের হাওর অধ্যুষিত এলাকা একটি ফসলে নির্ভর করে সারা বছরের জীবন-জীবিকা চলে। পুরন্দরপুর গ্রামের উত্তর দিকে পাকনার হাওর ভরে আমাদের গ্রাম তথা এলাকার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজ জমি অনাবাদি হয়েছে অনেক ও আশপাশের সুরমার শাখা ও উপ-নদী ভরাট হয়ে পানির সংকট শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিচ্ছে প্রতি বছর। আমাদের হাওর অধ্যুষিত মাছের এলাকা; অথচ মাছ পাওয়া যায় না। এর একটিমাত্র কারণই; নদী-নালা ও বিল বিভিন্ন জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। জমি রক্ষায় বেড়িবাঁধ রয়েছে।

 

 

 

 

 

এতে জমি অসময়ে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ হয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এর জন্য দরকার সরকারের স্থায়ী সিদ্ধান্ত অর্থাৎ নদী ও হাওরের বিল খনন করা। নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান দেশ; এ দুই দিক রক্ষায় সরকারকে অচিরেই ভাবতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা গ্রামীণ এলাকার মানুষ আন্তঃস্থানান্তরিত হয়ে শহরের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এতে করে দেশে নানাবিধ সমস্যা বাড়বে। দেশের হাওর অধ্যুষিত অঞ্চলের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার কৃষিকাজ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ফসলের মৌসুমে প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে ফসল ভালো হয়; আর প্রকৃতি বা আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই অঞ্চলে বরাবরই ফসলের মৌসুমে কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো শীলাবৃষ্টি, কখনো বা অতিবৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট অকাল বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে গিয়ে কৃষকের স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যায়। মূলত ইহা একটি প্রাকৃতিক সমস্যা বা দুর্যোগ; যা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এর জন্য পরিকল্পিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমস্যার অন্বেষণ- এর একটি হচ্ছে নদী ও হাওরের বিল খনন এবং হাওর রক্ষায় বেড়িবাঁধ পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে করা। কৃষক ধান উৎপাদন করেন এবং সারা বছর স্থানীয় ভাবধারা পর্যবেক্ষণ করেন।

ads

 

 

 

 

বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়- সুনামগঞ্জ জেলায় ১৫৪টি হাওরে প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ টন ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখে। বৃহত্তর সিলেটের শস্যভাণ্ডার বলে খ্যাত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসলকে প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতি বছর নানাবিধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- হাওর রক্ষা বাঁধ বা বেড়িবাঁধ নির্মাণকরণ। এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কারের অধিকাংশ বাঁধই বর্ষাকালে পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং ঢেউয়ের আঘাতে ও পানির স্রোতে মাটি সরে বাঁধের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়।

 

 

 

 

কৃষকদের ধারণা- অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ এবং হাওরের প্রয়োজনে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না রাখলে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে প্রতি বছর। হাওরের ক্লোজারে সাথে সম্পৃক্ত ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খালসমূহকে পুনর্খনন করে পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করে তুলতে হবে।

 

 

 

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শস্যভাণ্ডার সুনামগঞ্জ জেলার ১৩৭টি হাওরে ১০ লক্ষ কৃষক কর্তৃক দুই লাখ তেইশ হাজার পাঁচশ’ হেক্টর জমিতে মৌসুমী বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই শীলাবৃষ্টিতে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যাভীতি কৃষকদের আগাম ভাবাচ্ছে। ফসল নিয়ে প্রতি বছর আর ভাবনা নয়; এর নানাবিধ সমস্যার আলোকে সরকারকে নদী-নালা, খাল-বিল খননে অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষি, কৃষক ও বাংলার নদীমাতৃক উপকারভোগীদের স্বার্থে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।