ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে পাঁচ আসামির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি এলাকায় আসামিদের বাড়ি-ঘর ভাংচুরের পর রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চর কালীবাড়ি এলাকার এক প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে অভিযুক্ত শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুল (২২)। বাড়িতে ঢুকেই প্রবাসীর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে উঠোনের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন তারা।
এরপর তারা ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে জিম্মি করে আলমারিতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে। পরবর্তীকালে ছেলেকে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত রাজিব পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং তিন দিনের মধ্যে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর নির্যাতিতা পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং গফরগাঁও থানা-পুলিশকে খবর দেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই নারী বাদি হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজিব নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠায়।এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রথমে দুই আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে রাত ৮ টার দিকে আসামিদের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বসতঘরগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
চর কালীবাড়ির বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয়রা মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আসামিদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। পরে রাত ৮ টার দিকে আবারও বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান শেখ জানান, এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে আসামিদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বর্তমানে পুলিশ এলাকায় অবস্থান করছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকালে চর কালীবাড়ি সড়কে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এতে উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম, বিএনপি নেতা হাফিজ আল আসাদ, জিল্লুর রহমান মাস্টার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু সায়েমসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।