দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতির দায় কে নেবে? সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা কি শুধু নীরব দর্শকের?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে দেশের কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী হামলা, সংঘর্ষ কিংবা সহিংসতার খবর। এসব হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। আহত ও নিহত হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। বড় ধরনের অপরাধের খবর সংগ্রহ করতে গেলেই সামনে চলে আসছে দলীয় পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম। দলীয় পরিচয় কি অপরাধীদের আইনের ঊর্ধ্বে থাকার লাইসেন্স?
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতির দায় কে নেবে? সরকার কী করছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা কোথায়? জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাঁদের কাছে আজ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে?
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে-এটাই প্রত্যাশা। অথচ মানুষ যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকে, সাংবাদিকেরা যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, আর অপরাধীরা যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়?জনগণ কি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য, নাকি নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকারও তাদের আছে?
আমরা কোনো দলের কাছে নয়, আইনের শাসনের কাছে জবাবদিহি চাই। অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হোক বিচারের মাপকাঠি। দল-মতনির্বিশেষে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।নীরবতা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চাই। আশ্বাস নয়, নিরাপত্তা চাই। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন-রাষ্ট্রের কাছে এটাই নাগরিকদের ন্যায্য দাবি।