খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার শ্বশানটিলায় আপন ভগ্নিপতিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে শ্যালকের বিরুদ্ধে।
সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ মধ্য রাতে ভগ্নিপতির নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিহত দীপক ঘোষ মুন্না (৩৮) রামগড় পৌর সভার ১নং ওয়ার্ডের শ্মশানটিলার রাখাল ঘোষের পুত্র বলে জানা গেছে। সে পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। সে দুই পুত্র সন্তানের জনক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যালক সাগর ত্রিপুরা (২৫) সহ তার বন্ধু”আকাঁশ ত্রিপুরা ও রুবেল ত্রিপুরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে রামগড় থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে মদ্যপ অবস্থায় সাগর ত্রিপুরা ও তার কয়েকজন বন্ধু ভগ্নিপতি দীপক ঘোষ মুন্নাকে মারার জন্য তার বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে থাকে। দীপক ঘোষ মুন্না বাড়ির সামনে আসলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দীপক ঘোষ মুন্না গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে (দীপক ঘোষ মুন্না) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লীচিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালের দিকে দীপক ঘোষ মুন্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে (দীপক ঘোষ মুন্না) রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মুন্নার বাবা রাখাল ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলে এবং পুত্রবধূর সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল। দু’জন আলাদাভাবে থাকছে। তার পুত্রবধূ কনিকা গার্মেন্টসের চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান করে থাকে। কয়েকবার চেষ্টা করেও কনিকাকে বাড়িতে আনা যায়নি। এ নিয়ে সালিস বৈঠকে দু’জনের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় শ্যালক সাগর ত্রিপুরার সঙ্গে মুন্নার বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে সাগর ত্রিপুরা মুন্নাকে হত্যা করে ধারণা করা হচ্ছে।
রামগড় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানার তদন্ত চলমান রয়েছে ও মামলার রুজুও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়।